Abstract
ন্যায়দর্শনে প্রমা, প্রমাণ, প্রমেয়, এবং প্রমাতা ইত্যাদি বিশদে আলোচিত হওয়ার সঙ্গে জ্ঞানের উৎস, ভ্রান্তি ও উপলব্ধির ধারা ও মনোবিজ্ঞানের সীমা নির্ধারিত হয়েছে। আত্মা চৈতন্যস্বরূপ, সর্বব্যাপী, নিত্য ও অবয়বরহিতরূপে গৃহীত হয়েছে, যার গুণসমূহ হল- ইচ্ছা, দ্বেষ, সুখ, দুঃখ, প্রযত্ন ও বুদ্ধি ইত্যাদি। ন্যায় মতে, জ্ঞান প্রক্রিয়া ইন্দ্রিয়-মন-আত্মার পারস্পরিক সংযোগের ফলে ঘটে এবং স্মৃতি ও সংস্কার আত্মায় স্থায়ী হয়। জ্ঞানতত্ত্বে ন্যায়দর্শন লৌকিক ও অলৌকিক প্রত্যক্ষের ভেদ করেছে এবং ভ্রম সম্বন্ধে অন্যথাখ্যাতিবাদের উপস্থাপন করেছে। নৈয়ায়িকরা চৈতন্যকে আত্মার স্বাভাবিক ধর্ম না বলে, গুণস্বরূপ বলেছেন। যা মুক্ত অবস্থায় নিবৃত্ত হয়। ভারতীয় দর্শনের সর্বজনীন লক্ষ্য হল মোক্ষ। ন্যায়দর্শন অনুযায়ী, মোক্ষ আত্মার ইন্দ্রিয়বদ্ধ অবস্থার অবসান ও সুখ, দুঃখ প্রভৃতি অনুভূতির ঐকান্তিক নিবৃত্তির নামমাত্র। সুতরাং ন্যায়দর্শনে আত্মা, মন, ইন্দ্রিয়, জ্ঞান, স্মৃতি, সংস্কার, প্রযত্ন, সুখ-দুঃখ প্রভৃতি মনোবিজ্ঞান বিষয়ক ধারণার দার্শনিক বিশ্লেষণ প্রতিফলিত হয়েছে। যোগ ও মনোবিজ্ঞানের আন্তঃসম্পর্ক মানবাচরণ, মানসিকাবস্থা ও শরীর-মন-চেতনার সমন্বিত অধ্যয়নের পথ নির্দেশ করে। ন্যায়দর্শন যোগ ও মনোবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক ভিত্তি স্থাপন করেছে; যা জ্ঞানতত্ত্ব, আত্মা ও মনের সম্পর্ক এবং মুক্তির ধারণা দার্শনিক ও মনোবৈজ্ঞানিক সমন্বয়ে প্রতিফলিত হয়েছে।