Abstract
ঠাকুর শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসের ভাষায় ইচ্ছাময়ের ইচ্ছাভিন্ন বৃক্ষপত্র নড়ে না। বেদ-উপনিষদ্ থেকে দর্শনাদি শাস্ত্র, কথামৃত থেকে রবীন্দ্রসঙ্গীত সর্বত্রই সেই ইচ্ছাময় পরমাত্মার অনুগ্রহ ও স্বপ্রকাশত্ব প্রতিধ্বনিত হয়েছে। কোটি শাস্ত্রাধ্যয়নেও সেই পরমাত্মা উদাসীন থাকতে পারেন আবার যাঁর প্রতি কৃপা করেন, শাস্ত্রজ্ঞানব্যতীতও তাঁর ব্রহ্মজ্ঞান হয়, এমনই তাঁর লীলাবৈভব। শাহ আব্দুল করিমের বাউল গানেও এই সারমর্ম ধ্বনিত হয়েছে কতকটা এইভাবে – ‘তন্ত্রমন্ত্র করে দেখি তার ভিতরে তুমি নাই, শাস্ত্রগ্রন্থ পড়ি যত আরো দূরে সরে যাই, কোন্ সাগরে খেলতেছ লাই ভাবতেছি তাই অন্তরে, কেমনে চিনিবো তোমারে?’ কঠোপনিষদে স্পষ্টোল্লিখিত – ‘যমেবৈষ বৃণুতে তেন লভ্যঃ তস্যৈষ আত্মা বিবৃণুতে তনূং স্বাম্’। এই ঔপনিষদিক মন্ত্রকেই উপজীব্য করে আত্মার অনুগ্রহ ও স্বপ্রকাশত্বের ধারণা কীভাবে রবীন্দ্রনাথের মননে চিন্তনে এক নান্দনিক ও ভাষাগত রূপ লাভ করেছে, বাণী ও সুরের মাধ্যমে বাক্ রূপিণী ব্রহ্ম কীভাবে নিজেকে প্রকাশ করেছে তা এই প্রবন্ধে আলোচিত হয়েছে। এই গবেষণায় উপনিষদীয় আত্মতত্ত্ব ও রবীন্দ্রদর্শনের মধ্যে একটি সম্বন্ধ স্থাপন করে দেখানো হয়েছে যে, জ্ঞান, মেধা বা প্রবচনের সীমা অতিক্রম করে আত্মার উপলব্ধি সম্ভব হয় কেবল অনুগ্রহ, অন্তর্দৃষ্টি ও সৃষ্টিশীল প্রকাশের মাধ্যমে।